মহিষাসুর মর্দিনী
মহালয়ার দিন ভোরে রেডিও চালায় না এমন বাঙালি ঘর বোধহয় খুব কম ই আছে। আর এই একটা দিনে রেডিওর টিভির থেকেও বেশি জনপ্রিয়তা পাওয়ার কারণ - বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র এর কন্ঠস্বর। বাঙালি মহালয়া কে জেনেছে, শুনেছে, উপভোগ করতে শিখেছে তার ই মাধ্যমে। তবে, All India Radio এর এই চির অম্লান অনুষ্ঠান চিরকাল বিতর্কের উর্ধ্বে ছিল না।
অনুষ্ঠানের অতীত
ব্যাপারগুলি আমার জন্মের ও অনেক আগের। বিষয়টা নিয়ে আকর্ষিত হলাম youtube এ একটা নতুন আগত বাংলা সিনেমা এর trailer দেখে। অল ইন্ডিয়া রেডিও তে মহিষাসুর মর্দিনীর সূত্রপাত 1937 সালে। বাণী কুমার এর লেখা, পঙ্কজ কুমার মল্লিক এর সুর, বীরেন্দ্র ভদ্রের স্তোত্র পাঠ - এ নিয়ে ছিল যাত্রা শুরু। প্রথমের দিকে আগের দিন রাতেই সব শিল্পীরা এসে যেতেন এবং ছটা নাগাদ live অনুষ্ঠান broadcast করা হতো রেডিওতে। একাধারে যেমন অনুষ্ঠানটি প্রথম থেকেই বাঙালির মনে জায়গা করে নেয়, তেমনি একটা বড় অংশের বাঙালি সেসময় এর প্রতিবাদ করে, কারণ যে লোকটা চন্ডীপাঠ করছে, সেই বীরেন্দ্র ভদ্র ব্রাহ্মণ নন। কিন্তু বাণী কুমার যার তত্ত্বাবধানে পুরো অনুষ্ঠানটা চলছিল, তিনি এ বিতর্কে কান দেননি।
এ সবের মধ্যে দিয়েই প্রায় দুই দশক ধরে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে live ব্রডকাস্ট হয় মহালয়া। পঞ্চাশের দশকে শুধু সময়টা ছটা থেকে পিছিয়ে প্রথমে সাড়ে পাঁচটা এবং পরে চারটে হয়ে যায়। ষাটের দশকে পুরো অনুষ্ঠানটিকে ধীরে ধীরে রেকর্ডিং করা হয় এবং তখন থেকে এ যাবৎ সেই রেকর্ডিং কেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চালানো হয়।
ব্যতিক্রমী
যে ঘটনাটার কথা বলতে চাই, সেটা হলো 1976 সালের। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চলছে আধুনিকতার ধুম। অল ইন্ডিয়া রেডিও ও এর থেকে বাদ যায়নি। রেডিওর বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে প্রয়োজন বা ইচ্ছামত বদলানো হতো ইমার্জেন্সি এর সময়। এর মধ্যে আরও একটি পরিবর্তন ঘটানো হলো যেটির হয়তো দরকার ছিল না বাঙালি জীবনে। পঙ্কজ মল্লিক এর জায়গায় সুরকার হিসেবে আনা হলো হেমন্ত মুখার্জী কে। আমাদের বাংলার শ্যামল মিত্র, আরতি মুখার্জী, শিপ্রা বোস, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় এর জায়গায় হেমন্ত বাবুর অনুরোধে এলেন লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে এর মত বোম্বের শিল্পীরা। আর সবথেকে বড় যে পরিবর্তন, তা হলো, বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র কে সরিয়ে পাঠের দায়িত্ব দেয়া হলো উত্তম কুমারকে। জানা যায়, উত্তম কুমার নিজে এই কাজ নেওয়া নিয়ে ঘোর সংশয়ে ছিলেন। একবার স্টুডিওতে গায়িকা আশিমা মুখার্জিকে বলতে শোনা যায়, "মার খাবো না তো?" অনুষ্ঠানটির নাম রাখা হয় - “দেবী দুর্গতিহারিনী ”
বলা বাহুল্য অল ইন্ডিয়া রেডিও এর এই প্রচেষ্টা একেবারেই মাঠে মারা যায়। এত তারকা-উজ্জ্বল হওয়া সত্ত্বেও হয়তো ইতিহাস সমৃদ্ধ এই অনুষ্ঠান মানুষের মনে একেবারেই দাগ কাটতে পারেনি। প্রভূত প্রতিবাদ এর কারণে পরের বছরেই আবার পুরোনো শিল্পীরা ফিরে আসেন।
অবশেষে...
মহালয়ার এই ঘটনাটা আমাকে খুব টানে কারণ আজকের দিনে এর প্রাসঙ্গিকতা। এই brand over quality এর যেই motto আজ আমরা আমাদের জীবনের সর্বত্র পালনে তৎপর, উপরোক্ত ঘটনাটা দেখিয়ে দেয়, যে তা কতটা ক্ষণস্থায়ী। মহালয়া টা হয়তো আমাদের কাছে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটা আমাদের হৃদয়ের এত কাছে- আমাদের বাঙালিত্বের একটা নিদর্শন।
তথ্যসূত্র:
১।। টাইমস অফ ইন্ডিয়া আর্কাইভস
২।। দ্য টেলিগ্রাফ আর্কাইভস
Good to get such a glorious history of Mahalaya..
ReplyDeleteThanks.
ReplyDeleteMahalaya is such an event that I think it brings back a lot of our childhood memories. Unfortunately, like me, a lot of young people in this generation are not aware of the history and controversies integrated with this event. That's why the small effort to remember this day and the event.